[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রামাণ্যচিত্র ঘিরে প্রতিবাদ, পরে সংশোধনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ আগষ্ট ২০২৬ ৪:৫০ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের একাংশ প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানালে মিলনায়তনে হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) উপস্থিত ছিলেন।


বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।


ভিডিও প্রদর্শনের পরপরই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে উপস্থিতদের একটি অংশ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, প্রামাণ্যচিত্রে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাবলি এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।


পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রথমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী উপস্থিতদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের আহ্বানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, প্রামাণ্যচিত্রে কিছু অসংগতি রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।


এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পুনরায় মঞ্চে এসে প্রামাণ্যচিত্রে থাকা ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং শহীদদের অবদান আরও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে।


সরকারের এ আশ্বাসের পর প্রতিবাদকারীরা শান্ত হন। পরে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার বাকি কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর