বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশোধিত ভাতা কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
নতুন ব্যবস্থায় মাসিক সম্মানি ভাতার পাশাপাশি উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদানের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা আরও জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন হার অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।
এছাড়া উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে ২ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবধারীদের মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তাদের জন্যও উৎসব, বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষের অনুদান একই হারে নির্ধারিত হয়েছে।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জন্য মাসিক ২৩ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, উৎসব উপলক্ষে ২৩ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে ২ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘ক’ শ্রেণির (৯৬–১০০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১–৯৫ শতাংশ) ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০–৬০ শতাংশ) ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১–১৯ শতাংশ) ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। সর্বশেষ ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ।
এসআর