[email protected] সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

একরাম হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ ৮:৩৭ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

অভিযোগ গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।

 

রোববার (২৬ জুলাই) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক প্রমাণ পর্যালোচনা করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়িত্বগত ও প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দাবি, আবদুর রহমান বদি একরামুল হকের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন এবং এই হত্যার পরিকল্পনায় তার ভূমিকার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

 

তিনি আরও বলেন, তদন্তে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, একরামুল হক নিহত হওয়ার পর তার কিছু সম্পত্তি বিভিন্ন উপায়ে দখল করা হয়। তবে এসব বিষয় আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

 

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সেনাবাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা এবং র‍্যাবের সাবেক সদস্যরা।

 

প্রসিকিউশন জানায়, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব আসামি পলাতক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর দাবি করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি গুলিতে অংশ নেন এবং অন্যরা ঘটনাস্থলে থেকে পরিকল্পনা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।

 

তিনি আরও বলেন, একরামুল হককে হত্যার সময় তার মোবাইল ফোন চালু ছিল। ফলে পরিবারের সদস্যরা ফোনের মাধ্যমে গুলির শব্দ এবং ঘটনার কিছু অংশ শুনতে পেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

 

উল্লেখ্য, এসব বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের উপস্থাপিত অভিযোগ ও তদন্তের দাবির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। মামলার বিচার এখনো চলমান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর