বিগত ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাসহ নানা কারণে চাকরিচ্যুত ১৫২২ জন পুলিশ সদস্য ও
তাদের পরিবার গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার পর পুনর্বহাল না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় তারা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো সুষ্ঠু বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বরখাস্ত করা হয়। চাকরি হারিয়ে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করতে রাইড শেয়ারিং, কৃষিকাজ বা দিনমজুরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোর সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধের পাশাপাশি অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসা করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারগুলো চরম সামাজিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সদর দপ্তর আবেদন পর্যালোচনার জন্য ডিআইজির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। তবে আইনি জটিলতার অজুহাতে অনেকেই পুনর্বহাল পাননি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবিক বিবেচনায় পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, যারা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বা বিভাগীয় আপিলে জয়ী হয়েছেন, তাদের পুনর্বহালের সুপারিশ করা হলেও কোনো আপিল না করা কিংবা নৈতিক স্খলন ও ফৌজদারি মামলা থাকা সদস্যদের বিষয়টি আইনগত কারণে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে নিজেদের অধিকার আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করলে শাহবাগ থানায় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই গুলশানে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবার।
উল্লেখ্য, বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে ১ হাজার ২৫ জন কনস্টেবল, ৭৯ জন নায়েক, ১৮০ জন এএসআই/এটিএসআই, ২০০ জন এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই, ১০ জন ইন্সপেক্টর এবং ২৮ জন নন-পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
এসআর