[email protected] মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৯ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামে ভুয়া ফেসবুক পেজ, সাবমেরিন কেবল প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ৯:০৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে বেসরকারি সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের পক্ষে বিভিন্ন প্রচারণামূলক পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

‘পিএমও বাংলাদেশ-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ২.০’ নামে পরিচালিত ওই পেজে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো ও সাবমেরিন কেবল প্রকল্প নিয়ে নানা দাবি করা হয়েছে।

 

পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি সাবমেরিন কেবল সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি ভারতের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং ইন্টারনেট সেবার খরচও হ্রাস পাবে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রকৃত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজের নাম ‘PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ এবং সেটি ভেরিফায়েড। সেখানে আলোচিত বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট পেজটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

ভুয়া পেজের পোস্টে আরও দাবি করা হয়, নতুন কেবল সংযোগের মাধ্যমে দেশের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী কয়েকটি অঞ্চলে ইন্টারনেট রপ্তানিও করতে পারবে। এসব দাবির পর অনেক ব্যবহারকারী সরকারের প্রশংসা করে মন্তব্য করলেও অন্যরা পেজটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচারণা চালানো অনৈতিক এবং বিভ্রান্তিকর। কেউ কেউ এটিকে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

 

এদিকে বেসরকারি সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের পটভূমি ঘেঁটে জানা যায়, ২০২২ সালে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাবমেরিন কেবল পরিচালনার লাইসেন্স পায়। পরবর্তীতে তারা যৌথভাবে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। তবে এ নিয়ে নীতিমালা ও লাইসেন্স শর্ত অনুসরণের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রকল্পটির সঙ্গে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়াও এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের তথ্য যাচাই করে গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর