[email protected] মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৯ আষাঢ় ১৪৩৩

অল্প বৃষ্টিতেই ডুবছে ঢাকা: জলাবদ্ধতা মুক্তির উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ১০:২১ এএম

সংগৃহীত ছবি

বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য বৃষ্টি আশীর্বাদের চেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে

 দাঁড়ায়। মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই মিরপুর, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী কিংবা মান্ডার মতো রাজধানীর বহু সড়ক ও এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে স্থবির হয়ে পড়ে, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলে।

প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ও পরিকল্পনা সত্ত্বেও এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাভূমি দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে চলমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল পুনরুদ্ধারে ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টিসহ মোট ১৪১টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করে ড্রেন সংস্কার, কালভার্ট মেরামত ও পাম্পিং সুবিধা বৃদ্ধির কাজ চালানো হচ্ছে।

​বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত মান্ডা, জিরানি, শ্যামপুর, বেগুনবাড়ী ও কালুনগর খালের সংস্কারসহ পুরোনো বক্স কালভার্ট অপসারণ করে প্রাকৃতিক খাল পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, ড্রেন ও খালে প্লাস্টিকসহ গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে বছরব্যাপী কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

এক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর মডেল অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে; যেমন জাপানের টোকিওর মতো বিশাল ভূগর্ভস্থ জলাধার ও টানেল নির্মাণ, সিঙ্গাপুরের মতো রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ও রিয়েল-টাইম ডিজিটাল মনিটরিং এবং চীনের ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণার মতো পানি শোষণক্ষম রাস্তা ও সবুজ অবকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।

ঢাকার জলাবদ্ধতা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—খাল ও জলাশয় সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা, আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ, নিচু এলাকায় নতুন পাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রাজউকের মতো সংস্থাগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয়ের জন্য একটি একীভূত নগর ড্রেনেজ কর্তৃপক্ষ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।

চলমান প্রকল্পগুলো সফল হলে স্বল্প ও মাঝারি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ কমলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হলে কেবল অবকাঠামো নয়, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর বাস্তবায়নই ঢাকাবাসীকে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর