[email protected] শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
৫ আষাঢ় ১৪৩৩

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি, পদ্মা সেতুর মডেলের সঙ্গে তুলনা করলেন পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬ ৮:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

নীলফামারী সফরে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও কারিগরি কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।


শুক্রবার ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ এলাকা, সেচ ক্যানেল এবং চারালকাটা নদী পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকার তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা ও নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।


মন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য মহাপরিকল্পনায় নদী শাসন, ড্রেজিং, তীররক্ষা, বাঁধ উন্নয়ন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতা এবং বর্ষাকালে আকস্মিক ঢল ও ভাঙন—এই দুই ধরনের সমস্যায় তিস্তা তীরবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।


প্রকল্পের সময়সীমা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কাজের পরিধি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে এটি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তিস্তা ইস্যুতে বর্তমানে বিভিন্ন মহলের আগ্রহ দেখা গেলেও নদীভাঙন ও পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে অতীতে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের অবদানও স্মরণ রাখা প্রয়োজন।


দুলুর মতে, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং এজন্য বিদেশি অর্থের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর