দুর্নীতির বিভিন্ন মামলার আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ নেয়।
সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাজ্য থেকে এশিয়ার একটি গন্তব্যে যাওয়ার পথে দুবাইয়ে ট্রানজিটে ছিলেন বেনজীর আহমেদ।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিংয়ে তার মুখাবয়ব শনাক্ত হয়। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে তার বিষয়ে বিদ্যমান সতর্কতা বার্তা সামনে আসে বলে দাবি করা হয়।
এর পর দুবাই পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাকে হেফাজতে নেয়। যদিও এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ, ইন্টারপোল বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, গত ১২ জুন আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে অবহিত করেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশটির আইনি বিধান অনুযায়ী গ্রেপ্তারের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করতে হয়। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আবেদন পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, পাসপোর্ট আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একজন উচ্চপদস্থ সাবেক কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার এই ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এসআর