জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ঋণখেলাপি ইস্যু ঘিরে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের পর সেটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে, যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের চিত্র তুলে ধরেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সংসদে ঋণখেলাপিদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান কয়েকজন সরকারি দলের সদস্য।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে এমন মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, আইন অনুযায়ী প্রকৃত ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান না, তাই পুরো সংসদকে এভাবে আখ্যায়িত করা যথার্থ নয়।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, উত্থাপিত বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণসংক্রান্ত বিতর্কিত তথ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাই সংসদে এ ধরনের বিষয় উত্থাপনকে অযৌক্তিক বলা যায় না। তিনি বক্তব্যটি বাদ না দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের কেউ আইনগতভাবে ঋণখেলাপি নন। আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্পত্তির পরই তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বৈধতা পেয়েছেন। তাই কাউকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা মানহানিকর হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে রুমিন ফারহানা বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্যাংক খাতে বকেয়া ঋণের বিষয়টি আবারও সামনে আনেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচনের আগে ঋণ পুনঃতফসিল ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থিতা বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন।
বিতর্কের একপর্যায়ে সংসদে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে সভাপতিমণ্ডলীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এসআর