চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে ৩২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি টিইইউএস কন্টেইনার পরিচালনা করা হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্জন।
কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ১৩ কোটিরও বেশি মেট্রিক টন পণ্য এবং ৪ হাজারের বেশি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এতে বন্দরের কার্যক্রমে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে এই অগ্রগতির মধ্যেও কিছু মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ৫ হাজার ৪৬০ কোটির বেশি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সময়ে কর-পূর্ব মুনাফা ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট, কর ও অন্যান্য খাতে সরকারকে ১ হাজার ৮০৪ কোটির বেশি টাকা প্রদান করেছে বন্দর।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে বিভিন্ন সেবার গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম, ই-গেইট এবং ই-পেমেন্ট চালুর মাধ্যমে জাহাজের অবস্থানকাল কমেছে এবং আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া ‘পেপারলেস পোর্ট’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হয়েছে।
কন্টেইনার সংরক্ষণ সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বন্দরের ইয়ার্ড ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার টিইইউএস থেকে বাড়িয়ে ৫৯ হাজার টিইইউএস করা হয়েছে, যা বাড়তি পণ্যচাপ সামাল দিতে সহায়তা করবে।
কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা রক্ষায় ড্রেজিং কার্যক্রমে কম ব্যয়ে কাজ সম্পন্ন করার ফলে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে পরিচালিত এক অডিটে বন্দর সন্তোষজনক মূল্যায়ন পেয়েছে। পাশাপাশি করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি কন্টেইনার রুট চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৪০ সালের মধ্যে বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি অর্জন করা। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে চট্টগ্রাম বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এসআর