[email protected] বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩

তিস্তা নদীতে নতুন ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬ ৯:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নতুন একটি ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।

 

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তিস্তা নদীঘেঁষা অঞ্চলের উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এ জবাব দেন।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনের সঙ্গে তিস্তা নদীর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে উজানে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে সেচ কার্যক্রমসহ কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। আবার বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনের মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা তীরবর্তী রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় নদীভাঙন প্রতিরোধে চলতি ও পূর্ববর্তী অর্থবছরে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রংপুর-৪ আসনের আওতাভুক্ত এলাকায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা কাজ চলমান রয়েছে, যা চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা।

 

তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি বিস্তৃত সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষায় নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, সমপরিমাণ নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধসংলগ্ন সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর