[email protected] মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩

বেনজীরকে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠাল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬ ৬:৩৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হয়েছে।

এ লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আদালতের আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন, গ্রেফতারি পরোয়ানা, আদালতের নির্দেশনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ধাপে ধাপে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

প্রথম ধাপে নথিগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পৌঁছানো হবে। দূতাবাস পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে।

 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আমিরাত কর্তৃপক্ষ বেনজীর আহমেদকে আটক করেছে বলে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। দেশটির আইনি বিধান অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে। সে কারণেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুতগতিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, অর্থ পাচার এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, অন্য কয়েকটি মামলার তদন্ত এখনও চলমান।

 

প্রত্যর্পণ আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু মামলার কাগজপত্রই নয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, আদালতের আদেশ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থার তথ্যও প্রয়োজন হয়। এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেই নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে গ্রেফতারের পরবর্তী এই প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা গেলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর