[email protected] সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩

খাবার খাওয়ার পরে চা না কি কফি, হজমের জন্য কোনটি ভালো?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬ ৯:১৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

আমাদের দেশে দুপুরের বা রাতের খাবারের পর চা ও কফি উভয়ই বেশ জনপ্রিয় পানীয়। কেউ

 দুপুরের খাবারের শেষে চা পান করতে পছন্দ করেন, আবার কেউ বিকেলের ক্লান্তি দূর করতে কফির ওপর নির্ভর করেন। তবে এই পানীয়গুলো কি হজম প্রক্রিয়া বা পুষ্টি শোষণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে?

​অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে চা বা কফি পান করা সাধারণত নিরাপদ। তবে খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরেই চা বা কফি পান করলে তা শরীরে আয়রন শোষণের হার কমিয়ে দিতে পারে। তাই যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পানীয়গুলো পানের সময়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

​চা বনাম কফি এবং আয়রন শোষণ

​অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য খাবারের পর চা বা কফি পান করা ক্ষতিকর না হলেও, উভয় পানীয়তেই ক্যাফেইন এবং পলিফেনল নামক কিছু উপাদান থাকে যা পুষ্টি শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে:

​চা: চায়ের কিছু উপাদান ‘নন-হিম আয়রন’ (non-haem iron) শোষণের হার কমিয়ে দেয়। এই ধরনের আয়রন মূলত উদ্ভিদজাত খাবার যেমন ডাল, শিম এবং সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়।

​কফি: কফিতেও পলিফেনল থাকে, যা আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

​যদি শরীরে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকে এবং চিনি কম ব্যবহার করা হয়, তবে চা পান করা তুলনামূলক ভালো হতে পারে। তবে হজমের ক্ষেত্রে এই দুটি পানীয়ের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

​চা ও কফি যেভাবে প্রভাব ফেলে

​শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন সাহায্য করে, যা রক্তে অক্সিজেন বহন করে। প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন (হিম আয়রন) শরীর উদ্ভিদজাত আয়রনের তুলনায় সহজে শোষণ করতে পারে। চা ও কফিতে থাকা উপাদান পরিপাকতন্ত্রে নন-হিম আয়রনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, ফলে শরীর পর্যাপ্ত আয়রন শোষণ করতে পারে না।

​‘আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) রয়েছে এবং যাদের নেই—উভয় ক্ষেত্রেই চা পানের ফলে আয়রন শোষণের হার অনেকটা কমে যায়। বিশেষ করে যাদের খাদ্যাভ্যাসে মূলত উদ্ভিদজাত খাবার থাকে, তাদের জন্য বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

​চা বা কফি পানের সঠিক সময় ও কিছু পরামর্শ

​অপেক্ষা করুন: সুস্থ ব্যক্তি ও সুষম খাবার গ্রহণকারীদের খাবারের পর চা-কফি বর্জনের প্রয়োজন নেই। তবে আয়রনের ঘাটতি থাকলে বা অ্যানিমিয়ায় ভুগলে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর চা বা কফি পানের আগে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত।

​সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে: আয়রন সাপ্লিমেন্ট (যেমন- ফেরাস সালফেট) গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন এবং ওষুধ ও চা-কফির মাঝে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধান রাখুন। এনএইচএস (NHS)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, ফেরাস সালফেট গ্রহণের পর চা বা কফি পানের আগে অন্তত দুই ঘণ্টা বিরতি দেওয়া উচিত।

​অন্যান্য সমস্যা: অ্যাসিডিটি বা রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে চা-কফি পানের পরিমাণ কমিয়ে দিন। ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে চিনির ব্যবহার সীমিত রাখুন।

​পরিশেষে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে চা নাকি কফি পান করবেন তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ ও ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। তবে আয়রনের ঘাটতি বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে খাবার ও পানীয়ের মাঝে উপযুক্ত সময়ের ব্যবধান রাখা জরুরি।

এইচ/এম

সম্পর্কিত খবর