[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার ক্যানসার: যে ৭টি লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৩৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে

 বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। শুরুর দিকে এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না বলে অনেকেই বুঝতে পারেন না কখন চর্বি জমার এই সমস্যা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার মানেই যে তা নিশ্চিতভাবে ক্যানসারে রূপ নেবে বিষয়টি এমন নয়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে লিভারে প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

​ভারতের দেরাদুনের কৈলাশ হাসপাতালের পরামর্শক সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. শাশ্বত তিওয়ারির মতে, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এটি কীভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করছে কি না। অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে সৃষ্ট প্রদাহ বা ‘স্টিয়াটোহেপাটাইটিস’ দীর্ঘস্থায়ী হলে ফাইব্রোসিস বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে সিরোসিসে রূপ নিয়ে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে সিরোসিস ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসার হওয়ার নজির রয়েছে।

​যে ৭টি লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

​১. অকারণে ওজন হ্রাস: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই হঠাৎ করে শরীরের ওজন কমতে থাকা।

২. ক্ষুধামন্দা: খাবারের প্রতি অরুচি বা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুধা না লাগা।

৩. দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: শরীরে একটানা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।

৪. পেটের উপরিভাগে ব্যথা: পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে—যেখানে লিভার অবস্থিত—সেখানে অস্বস্তি বা ব্যথা বোধ করা।

৫. পেট ফুলে যাওয়া: পেটে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দেওয়া।

৬. জন্ডিস: ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করা।

৭. অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা ঘুমের পরেও শরীর দুর্বল থাকা ও ক্লান্তি দূর না হওয়া।

​এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই যে লিভার ক্যানসার হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সঠিক কারণ নির্ণয় ও সুরক্ষার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। ফ্যাটি লিভার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।

এসআর

সম্পর্কিত খবর