বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনা, নতুন পরিবেশ ও ব্যস্ত সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেরই
রাত জাগার অভ্যাস তৈরি হয়। তবে ঘুমের অবহেলা স্মৃতিশক্তি, পড়াশোনা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথম দিকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হলেও দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে রাতের ঘুমকে আরও উন্নত করা সম্ভব। রাতে ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা যে চার পরামর্শ দিয়েছেন:
সকালে রোদে থাকা ও নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা
মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের ঘুম বিষয় নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ জো বেকারের মতে, সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তিনি প্রতিদিন সকাল ১১টার মধ্যে কিছু সময় বাইরে রোদে কাটানোর পরামর্শ দেন। এছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত, কারণ রাতের ভালো ঘুম মূলত সকালে ঘুম থেকে ওঠার ওপর নির্ভর করে।
জোর করে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা না করা
ঘুম না এলে অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিক সময়ের আগেই বিছানায় চলে যান, যা সমস্যার সমাধান করার বদলে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞের মতে, ঘুম ছাড়া দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে ঘুমের জায়গার বদলে হতাশা ও জেগে থাকার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারে।
ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণে সতর্কতা
ঘুম কাটাতে দিনের বিভিন্ন সময়ে চা বা কফি খাওয়া অনেকের অভ্যাস। তবে ক্যাফেইন মানবদেহে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থেকে স্বাভাবিক ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। একইভাবে অ্যালকোহলে ক্ষণিকের ঘুম ভাব এলেও তা রাতের গভীর ও স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।
ঘুমানোর আগে মনকে শান্ত রাখা
ঘুমানোর আগে শরীর ও মনকে শান্ত করার জন্য একটি আরামদায়ক রুটিন মেনে চলা প্রয়োজন। ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা কমে আসে, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের বার্তা দেয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে শোয়ার আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থেকে বই পড়া, শান্ত গান বা পডকাস্ট শোনা ঘুমের দারুণ সহায়ক হতে পারে।
এসআর