[email protected] শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরও শরীরে ঘাটতি দেখা দেওয়ার কারণ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:২৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য সঠিক মাত্রায় আয়রন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। রক্তে অক্সিজেন

 সরবরাহকারী লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন 'হিমোগ্লোবিন' তৈরিতে আয়রন প্রধান ভূমিকা পালন করে। আমেরিকান সোসাইটি অফ হেমাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, শরীরে সঞ্চিত আয়রনের পরিমাণ কমে গেলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা ও বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, যা মূলত আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া। তবে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রনের ঘাটতি থেকে যায়:

  • আয়রন শোষণে বাধা: খাবারের আয়রন সবসময় রক্তে পুরোপুরি শোষিত হয় না। প্রাণীজ উৎস (মাংস, মাছ) থেকে পাওয়া 'হিম আয়রন' খুব সহজে শরীরে শোষিত হলেও উদ্ভিদজাত খাবার (ডাল, বাদাম, শাকসবজি) থেকে পাওয়া 'নন-হিম আয়রন' সহজে শোষিত হয় না। এর পাশাপাশি চা, কফি এবং অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার আয়রন শোষণে বিঘ্ন ঘটায়। তবে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার (যেমন লেবু বা টমেটো) গ্রহণ করলে নন-হিম আয়রনের শোষণক্ষমতা বাড়ে।
  • শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ: বিএমজে জার্নালসের গবেষণা অনুসারে, আয়রনের ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো রক্তক্ষরণ। নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের ফলে শরীরের সঞ্চিত আয়রন দ্রুত হ্রাস পায়। এছাড়া পাচনতন্ত্রের আলসার, প্রদাহ, অর্শ (পাইলস) বা ব্যথানাশক ওষুধের প্রভাবে হওয়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণেও আয়রনের ঘাটতি তৈরি হয়।
  • অন্ত্রের শোষণজনিত সমস্যা: ফ্রন্টিয়ার্স ইন ইমিউনোলজি জার্নালের গবেষণা থেকে জানা যায়, সিলিয়াক ডিজিজের মতো অন্ত্রের কিছু রোগে ক্ষুদ্রান্ত্রের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও আয়রন শোষণ করতে পারে না। অনেক সময় পরিপাকতন্ত্রের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই সিলিয়াক ডিজিজ থাকতে পারে।
  • শরীরে আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় শিশু ও অতিরিক্ত রক্তের চাহিদা মেটাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আয়রনের প্রয়োজন হয়। একইভাবে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দ্রুত বৃদ্ধির বয়সেও আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়। এই সময়ে সাধারণ খাদ্যাভ্যাস থেকে প্রাপ্ত আয়রন শরীরের বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রায়শই অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়।
  • খাদ্যে আয়রনের উপযোগিতা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ: খাদ্যে আয়রন বিদ্যমান থাকলেও তা শরীরের জন্য কতটা সহজলভ্য, তা গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যের ওপর নির্ভর করলে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত আয়রন না-ও মিলতে পারে। তাছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, কিডনির সমস্যা বা অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শরীরের লোহিত রক্তকণিকা তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

​খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পর কিংবা আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করার পরেও রক্তে আয়রনের মাত্রা কম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর