পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এবং থাইরয়েডের সমস্যার মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, কারণ দুটিই শরীরের অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি বা হরমোনজনিত রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, পিসিওএস আক্রান্ত নারীদের মধ্যে
হাইপোথাইরয়েডিজম বা অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের প্রবণতা সাধারণ মানুষের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি। এই দুই সমস্যার প্রধান সাদৃশ্য হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে শরীরে প্রোল্যাকটিন হরমোনের আধিক্য ঘটে, যা মাসিকের অনিয়ম ও ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়—যা পিসিওএস-এরও অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং স্থূলতা এই দুই শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। পিসিওএস এবং হাইপোথাইরয়েডিজম উভয়ই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে যুক্ত, যা শরীরে পুরুষ হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া, পিসিওএস রোগীদের শরীরে থাইরয়েডের বিরুদ্ধে অটোঅ্যান্টিবডির উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়, যা অটোইমিউনিটির ইঙ্গিত দেয়। 'ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ইনসাইটস: এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটিস' জার্নালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওএস আক্রান্তদের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজমের ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিসিওএস এবং থাইরয়েডের সমস্যা একসঙ্গে থাকলে বিপাকীয় সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
শনাক্ত না হওয়া হাইপোথাইরয়েডিজম মূলত পিসিওএস-এর উপসর্গ যেমন—বন্ধ্যাত্ব ও বিপাকীয় জটিলতাকে আরও তীব্র করে। তাই পিসিওএস আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত থাইরয়েড গ্রন্থি পরীক্ষা করা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।
এসআর