[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জিয়াউল আহসানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বাকি সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৪১ এএম

সংগৃহীত ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা

 মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই জবানবন্দি নেওয়া হবে।

​প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং সেদিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। পরবর্তী জবানবন্দির জন্য ৪ অক্টোবর দিন নির্ধারিত থাকলেও সেদিন সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব হয়নি, যার ফলে আজকের দিন ধার্য করা হয়। প্রসিকিউশন জানায়, মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি সম্পন্ন হলে মামলাটি চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের পর্যায়ে প্রবেশ করবে। তবে আসামিপক্ষ চাইলে তাদের সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ পাবে।

​এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম, যিনি তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী ও র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়, যিনি এই মামলার সর্বশেষ প্রত্যক্ষদর্শী (চাক্ষুষ) সাক্ষী ছিলেন।

​উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে:

​১. ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা।

২. ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।

৩. একই সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যা।

​এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে। পরবর্তীতে ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর