[email protected] রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩:১০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ, ট্রলি ও জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনা ছিল কি না এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানতে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

 

আদালত সূত্র জানায়, শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর শনিবার রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

 

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে ৩৪ জন জামায়াত প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। ওই সময় বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। একই সময়ে লাগেজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহেও বিলম্ব হয়।

 

এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে লাগেজ ও জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডাকেন। তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান এবং হুমকিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

 

ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও কঠোর ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এলে তার সঙ্গেও উত্তেজনাকর আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য রাখা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব। এতে সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার আসামি আখতারুজ্জামানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এদিকে জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কনটেইনার অফলোডিং ও পরিচালনাগত সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে জমজমের পানি ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছাতে পারেনি। বিষয়টি জানার পর সংরক্ষিত মজুত থেকে দ্রুত পানি সরবরাহ করা হয় এবং পরে অন্য কনটেইনার শনাক্ত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।

 

অন্যদিকে আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে দলটি। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর