রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদেশের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান গত ১ জুলাই মেননকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও তিনি আসামি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত একটি মামলার বিচারাধীন রয়েছেন।
দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনগত ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ গভর্নিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এছাড়া এনটিআরসিএ সনদ ছাড়া প্রার্থীদের আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া একজন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যুর অভিযোগও রয়েছে।
এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন, জহিরুল ইসলাম খানসহ শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন।
এসআর