[email protected] মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ অভিযোগে খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬ ৩:৫৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কুষ্টিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এ এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।


ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


রায়ে আটটি অভিযোগের মধ্যে তৃতীয় অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পৃথকভাবে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে হাজতখানা থেকে ইনুকে আদালতে আনা হয়। এরপর বিচারকরা পর্যায়ক্রমে অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে চেয়ারম্যান চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।


মামলার তদন্তে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন বক্তব্য, বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।


তদন্ত শেষে ২০২৫ সালে ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষের পক্ষে দুজন সাক্ষ্য দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন নথি ও আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর