নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক তরুণকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় আহত তিন সদস্য বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী অমিত হাসান মিরাজ (৩০) ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন, যার মধ্যে চারজনই ঢাকা জেলা ডিবিতে কর্মরত পুলিশ সদস্য।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মাতুব্বর (৪০), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমান উল্লাহ (৩৪), কনস্টেবল কবির (৩৩) এবং কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউসিয়া এলাকায় অমিত হাসান মিরাজকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করে মারধর করেন।
পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মেহেদী ইসলাম জানান, আহত তিন সদস্য পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অপরদিকে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকার বাসিন্দা অমিত হাসান মিরাজ বৃহস্পতিবার এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে গাউসিয়া এলাকায় যান।
সেখানে সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্য ও তাদের আরও দুই সহযোগী তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের বাধা দেয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে সাদা পোশাকে ছিলেন। রূপগঞ্জ থানা পুলিশও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুন অমিতের এক আত্মীয়কে একই চক্র কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। পরে পরিবারের সদস্যরা আড়াই লাখ টাকা দিয়ে তাকে মুক্ত করেন।
এছাড়া প্রায় এক মাস আগে জাকির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও একই কায়দায় মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, মামলায় অভিযুক্ত দুই সহযোগী—গাড়িচালক আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) ও মো. সেলিম (৪৫)—এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ডিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এসআর