ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কারাবন্দি বহিষ্কৃত ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া দুই আইনজীবীর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ বাতিল করেছে সরকার।
বৃস্পতিবার (১৮ জুন) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইনের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে সংশ্লিষ্ট দুই আইনজীবীর নিয়োগ বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগ হারানো ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, তারা গণমাধ্যমের সামনে জিসান মিয়া প্রধানের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এপিপি হিসেবে তাদের নিয়োগসংক্রান্ত পূর্বের আদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
এদিকে জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাটি শুরু হয় গত ১১ জুন।
সেদিন রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে তার নিখোঁজ হওয়ার দাবি করা হয় এবং পরদিন দাউদকান্দি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে একই দিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জেলা পুলিশ জানায়, ২৫ বছর বয়সী এক নারী জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত মে মাসে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, নারীটি গর্ভবতী হওয়ার পর গর্ভপাতের জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয়। পরে বিয়ের দাবি উঠলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত বিয়ের আগে পরিস্থিতি এড়াতে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সাজানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।
গত ১৬ জুন জিসানকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসআর