রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলা থেকে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে। পিএসি-৩ মডেলের অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি ডলার। এ প্রকল্পের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি তহবিল ব্যবহার করা হবে না। ইউরোপের মিত্র দেশগুলো ও কানাডা এ ব্যয় বহন করবে।
এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ দ্রুত করার জন্য শুক্রবার রাতেও ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ইউক্রেন সরকার।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে মস্কোর ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে কিয়েভ। এর জেরে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। একপর্যায়ে ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মন্তব্য করেন।
তবে গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কিছুটা কমে আসে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রির ফলে ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবৃতি অনুযায়ী, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের সহায়তার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় অর্থ সংগ্রহ করা হবে। এ ক্ষেত্রে জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে মার্কিন অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের কয়েকটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় মস্কো।
এফ/ডি