যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা নির্ভরতা কমানোসহ বৈশ্বিক ভূরাজনীতির
অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় 'অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার' নামে একটি নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একইসঙ্গে সমভাবাপন্ন অন্যান্য দেশগুলোকেও এই জোটে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মন্ট্রিয়লে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এই ঘোষণা দেন। দুই দিনের সম্মেলন শেষে কানাডা ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যিক সমন্বয়, বাণিজ্য-ভ্রমণ সহজীকরণ, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনের জন্য ৯ হাজার কোটি ইউরোর সহায়তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল বিষয়সমূহ:
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্যক্তির ওপর নির্ভরতা হ্রাস: ইলন মাস্কের ইউক্রেনে স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড সেবার গতি কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে কানাডার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এমন কারও হাতে দেশের সার্বভৌমত্ব দেওয়া ঠিক নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সুপারকম্পিউটিং: অটোয়া ও ব্রাসেলস কানাডাকে ইউরোপের সুপারকম্পিউটিং নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চুক্তি করেছে। কানাডার এআই প্রতিষ্ঠান 'কোহিয়ার' ও জার্মানির 'আলেফ আলফা' একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে কানাডা ১৬০ কোটি কানাডীয় ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
সাপ্লাই চেইন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানান, ভূরাজনৈতিক চাপ ও বাণিজ্যে বাধা এলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই দ্রব্যমূল্যের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়। কানাডা ও ইইউ যৌথভাবে খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর ও জ্বালানির টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়।
ইইউর সহযোগী সদস্য পদ: সম্মেলনে কানাডার ইইউর সহযোগী সদস্য (Associate Member) হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠলেও কিছু সদস্য দেশের আপত্তির কারণে ২০২৭ সালের সম্মেলনে এর সুনির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এইচ/এম