ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিলে ওয়াশিংটন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের
সহযোগী দেশগুলোকে ‘বিপুল ক্ষতি’ সইতে হবে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা চালানোর সাহস হবে না বলে তিনি মনে করেন। তবে যদি তারা কোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহস দেখায়, তবে তার মাশুল যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকেই দিতে হবে।
পার্লামেন্টের ভোটাভুটির তথ্যমতে, মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে ২৩৭টি ভোট পেয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন আখলাঘি। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। নাসিরজাদেহের স্থলাভিষিক্ত করতেই দীর্ঘ প্রায় আট মাস পর মেহরদাদ আখলাঘিকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আখলাঘি বলেন, এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে তিনি দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দেশকে সুরক্ষিত রাখতে হলে সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রেখে সম্ভাব্য সকল চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, মেহরদাদ আখলাঘির সরাসরি কোনো সামরিক পদমর্যাদা না থাকলেও তিনি দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ইরানের প্রধান অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'ইরানিয়ান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন'-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়া পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০০৭ সালে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
এসআর