[email protected] সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোট কারচুপির অভিযোগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধীদের বৈঠক, রাহুলের দাবিতে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২:০৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’।

বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তাঁদের অভিযোগ শোনার পর রাষ্ট্রপতি তা সরাসরি নাকচ করেননি; বরং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে তাঁদের কাছে প্রমাণ রয়েছে এবং দেশের মানুষও বিষয়টি দেখেছেন বলে তাঁরা মনে করেন।

 

তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি ভবনের সূত্র রাহুলের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। সূত্রটির দাবি, রাষ্ট্রপতিকে এ ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ানো দুঃখজনক।

 

রাহুল গান্ধী আরও জানান, আগামী সোমবার বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেবেন।

 

এর আগে রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে মিছিল করেন। পরে তাঁদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে।

 

রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিরোধীরা চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তি-সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম বন্ধ এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা।

 

এ ছাড়া সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেগুলো বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।

 

বিরোধীদের বিক্ষোভ ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে অভিযোগ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী নেতাদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অন্য নেতারা কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁদের হাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লক্ষ্য করে লেখা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

 

বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগও তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

 

বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বিজেপির

বিরোধীদের কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস রাজনৈতিক বিতর্কে রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে জড়িয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

 

তিনি আরও বলেন, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়াই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য বলে তাঁদের ধারণা।

 

সব মিলিয়ে, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী জোটের অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে জোরালো হয়েছে। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর