আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছায়। এ পরিস্থিতিতে সপ্তাহের হিসাবে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারসের দাম একই হারে বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি সংঘাতের অবসানে আলোচনা চলায় জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভ চলতি মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলে ডলারের দর ও বন্ডের মুনাফার ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ডলারের দুর্বলতা সাধারণত স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। কারণ, ডলারে মূল্য নির্ধারিত এই ধাতু অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে।
তবে স্বর্ণের বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। মূল্যস্ফীতির চাপ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা দাম কমার ঝুঁকি তৈরি করছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ পাওয়া যায় না বলে সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা অন্য সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে সুদের হার আবারও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে চলতি মাসের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ করেননি।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুসারে, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ বলে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ধারণা করছেন। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তারা ৮৪ শতাংশ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে
এসআর