২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলির ঘটনায় ১৩ জন নিহত হওয়ার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের দণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া জনসমক্ষে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সাবেক মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর চালানো গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন।
নিহতদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।
হামলার পর হাসান মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নেওয়ার যুক্তি তুলে ধরেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমোদন দিয়েছেন বলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে দণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত তারিখ, স্থান এবং সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
দণ্ড কার্যকর হলে এটি ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করা হলে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এ পদ্ধতির প্রথম প্রয়োগ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআর