[email protected] শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ: বিশ্ববাজারে এক লাফে তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ, শেয়ারবাজারে দরপতন

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১০ এএম

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার

 আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। একই সঙ্গে এর নেতিবাচক প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন দেখা গেছে। তেলের ট্যাংকারে হামলা এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। অবশ্য পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো হামলা চালাবে না। তার এই বিজ্ঞপ্তির পর তেলের বাজার কিছুটা শান্ত হয় এবং দাম কিছুটা কমে আসে।

​এদিকে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) প্রায় ০.৫ শতাংশ হ্রাস পায়। একই ধরনের দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতেও।

​চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যবর্তী সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে হুথি বিদ্রোহীদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছেন। আঞ্চলিক এই সংঘাতের বিস্তার মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

​বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিবহনপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে গত এক মাসে তেল ও গ্যাস পরিবহন বৃদ্ধি পেয়েছিল। কয়েক মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও, মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা সহায়তায় কিছু আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পুনরায় এই পথে যাতায়াতের ঝুঁকি নিচ্ছিল। তবে গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফলে এই পথে জ্বালানি পরিবহন ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

​এর পাশাপাশি, হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি জোটের সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি কার্যক্রম চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে তেল পরিবহনের প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

​আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘রিস্ট্যাড এনার্জি’-র জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে লিওনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কিছুটা কমার কথা থাকলেও সার্বিক অস্থিরতার কারণে তা ঘটেনি। তার মতে, লোহিত সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে।

​লিওন আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের বক্তব্যও তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার কথা বললেও, বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত দ্রুত কোনো হামলা শুরু করবে না—এমন বার্তা মিলেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর