[email protected] শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নোবেলজয়ীদের ছবিতে কালো রেখা ও সোনালি আভা কেন, জানুন কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪:৪৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

প্রতি বছর নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় তাদের পরিচয়ের পাশাপাশি একটি বিশেষ ধরনের পোর্ট্রেটও নজর কাড়ে।

গাঢ় কালো রেখায় আঁকা মুখাবয়বের সঙ্গে থাকে সোনালি আভা। ডিজিটাল যুগে কয়েক মুহূর্তেই যেখানে যেকোনো ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব, সেখানে নোবেলজয়ীদের জন্য এমন হাতে আঁকা প্রতিকৃতি ব্যবহারের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব ও নান্দনিক কারণ।

 

এই বিশেষ পোর্ট্রেটের প্রচলন শুরু হয় মূলত ছবি সংগ্রহের সমস্যার সমাধান হিসেবে। ২০১২ সালে শিল্পী নিকলাস এলমেহেড নোবেল মিডিয়ার সঙ্গে কাজ শুরু করার পর দেখতে পান, পুরস্কার ঘোষণার সময় অনেক বিজয়ীর উপযুক্ত ও উচ্চমানের ছবি দ্রুত পাওয়া যায় না। অথচ নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ হওয়ায় বিজয়ীর ছবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজন হয়।

 

এই পরিস্থিতিতে এলমেহেড দ্রুত হাতে আঁকা প্রতিকৃতি তৈরির পদ্ধতি বেছে নেন। শুরুতে কালো মার্কার ব্যবহার করে তৈরি করা এসব পোর্ট্রেট ২০১২ ও ২০১৩ সালে সংবাদমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পরে নোবেল কর্তৃপক্ষ এ কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট শিল্পধারা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়।

 

এ ধরনের পোর্ট্রেটের আরেকটি সুবিধা হলো—বিজয়ী যে ক্ষেত্রেরই হোন না কেন, সবার ছবিতে একটি অভিন্ন নকশা বজায় থাকে। পদার্থবিদ, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, সাহিত্যিক কিংবা অন্য কোনো শাখার পুরস্কারজয়ী—সবাই একই ধরনের ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হন।

 

পোর্ট্রেটের কালো রেখাগুলোও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মুখের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোকে সহজ ও স্পষ্ট রেখায় ফুটিয়ে তোলার ফলে ছোট আকারের ছবিতেও প্রতিকৃতিটি সহজে শনাক্ত করা যায়। ওয়েবসাইটের থাম্বনেইল কিংবা সংবাদপত্র—দুই মাধ্যমেই এটি দ্রুত পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

তবে সোনালি অংশটি শুরু থেকেই এই পোর্ট্রেটের বৈশিষ্ট্য ছিল না। ২০১৭ সালে নোবেল ফাউন্ডেশনের ভিজ্যুয়াল ব্র্যান্ডিংয়ে সোনালি রঙকে গুরুত্ব দেওয়ার পর ২০১৮ সাল থেকে এলমেহেড প্রতিকৃতিতে আসল গোল্ড ফয়েল ব্যবহার শুরু করেন। নোবেল মেডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই সোনালি উপাদান ছবিগুলোকে আরও স্বতন্ত্র করে তোলে।

 

বর্তমানে পোর্ট্রেটগুলো ডিজিটাল সফটওয়্যারের তৈরি কোনো সাধারণ গ্রাফিক নয়। কালো অ্যাক্রিলিক রং ও মার্কার দিয়ে হাতে রেখা আঁকার পর বিশেষ আঠার সাহায্যে ধাতব সোনার পাত যুক্ত করা হয়।

 

অর্থাৎ, দ্রুত ছবি সংগ্রহের প্রয়োজন থেকে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব ভিজ্যুয়াল ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সঙ্গে কালো রেখা ও সোনালি ফয়েলের এই প্রতিকৃতিও তাই নোবেল পুরস্কারের পরিচিত প্রতীক হিসেবে সামনে আসে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর