[email protected] বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদির নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন করবে তুরস্ক ও পাকিস্তান: মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের ঘোষণা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৯:০৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের

 সুরক্ষায় দ্রুত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। নবগঠিত ত্রিপক্ষীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হিসেবে এই যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

​সোমবার (৫ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, গত আগস্টে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'-এর অধীনে কোনো এক সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ তাকে সামরিক সহায়তা প্রদান করবে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি সৌদি আরবকে নিয়ে এই ঐতিহাসিক শক্তিধর জোটটি গঠিত হয়েছে।

​এর আগে সোমবার রিয়াদে তিন দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বিশেষ করে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও আলোচনা করা হয়। যৌথ বিবৃতিতে তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর পরিচালিত যেকোনো হামলা ও হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তীব্র নিন্দা জানান।

​বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মক্কা চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৌদি আরবের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা অতি দ্রুত দেশটিতে পৌঁছানো এবং মোতায়েন নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনারা ঠিক কী ধরণের সামরিক ভূমিকা বা দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

​উল্লেখ্য, ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকে সৌদি আরব ক্রমাগত হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর, জ্বালানি ও তেল অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিয়মিত এই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা নতুন করে আগ্রাসী অভিযান চালিয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের হাত থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর জবাবে গত সোমবার সৌদি আরবের সরাসরি সমর্থনে ও অর্থায়নে পুনর্দখল অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী।

এসআর

সম্পর্কিত খবর