দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ পরিস্থিতি।
এ সময় কেবিনের আলো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এর মধ্যেই ককপিটে ঘটে যায় আরও গুরুতর ঘটনা।
কো-পাইলটের হামলায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় গুরুতর আহত হন। ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হয়ে একপর্যায়ে তিনি ককপিটের মেঝেতে পড়ে যান। আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান।
এরপর এক ইসরাইলি প্লাম্বারসহ কয়েকজন যাত্রী হামলাকারী কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং তাকে কেবিনে নিয়ে আসেন। তিনি ফ্লাইট ডেক ও নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে যাত্রীরা হেডফোনের তারসহ বিভিন্ন উপায়ে তাকে বেঁধে ফেলেন।
এদিকে একজন ডেন্টিস্ট আহত ক্যাপ্টেনের কাছে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং রক্তপাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একই সময়ে ওই প্লাম্বার ককপিটে ফিরে গিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। পরে অফ-ডিউটিতে থাকা আরেক পাইলটও ককপিটে যোগ দেন।
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিমানটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় গিয়ে পুনরায় নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রায় ১২ মিনিটের এই সংকটময় পরিস্থিতির পর উড়োজাহাজটি জরুরি সংকেত পাঠিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমানটিতে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীই নিরাপদে রক্ষা পান। আহত ক্যাপ্টেনকে প্রথমে তাবুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আবুধাবিতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় এবং সংকটের সময় সহায়তাকারী যাত্রীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ইসরাইল ও ভারতের শীর্ষ নেতারা।
এসআর