[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

তুরস্কে ১৭ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, সংকটে এরদোগান সরকার

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভুয়া ও নিয়মবহির্ভূত বিনিয়োগ ফান্ডের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারীকে প্রতারিত

 করে ১৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা) হাতিয়ে নেওয়ার এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে তুরস্কে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

​অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দেশটির পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা একযোগে অন্তত ১৩০টি বিতর্কিত ফান্ড বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে দেশটির শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে, যা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সরকারের জন্য এক চরম রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

​তদন্তকারীদের তথ্য মতে, প্রতারক ফান্ডগুলো বাজারে কম সংখ্যক শেয়ার থাকা কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। একটি ফান্ড গত এক বছরে ১,৫০০ শতাংশের বেশি মুনাফা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করেছিল। তবে এই প্রতারণার পেছনে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগসাজশ থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এই অনিয়মে যুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ ও ফান্ডগুলোর পর্ষদে এরদোগানের সাবেক ও বর্তমান উপদেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীদের স্বজনরা সম্পৃক্ত ছিলেন।

​বিতর্ক বাড়ার মুখে ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শেয়ার বাজারে ধস নামার ঠিক মুহূর্তে তিনি অস্বাভাবিক দামে নিজের সব শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন।

​ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক ফান্ডের চেয়ারম্যানসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বর্তমান ডেপুটি অর্থমন্ত্রীর জামাতাও রয়েছেন, যিনি এই শেয়ার কারসাজির অন্যতম মূলহোতা ছিলেন।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট এরদোগান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে ৬ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষ তাদের মূল বিনিয়োগের খুব সামান্য অংশই ফেরত পেতে পারেন।

​টাকা হারানো ক্ষতিগ্রস্তদের বড় একটি অংশই এরদোগানের সমর্থক। ফলে আগামী নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই বিশাল কেলেঙ্কারি এরদোগান সরকারের জন্য গভীর সংকট ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর