ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার যুদ্ধ ব্যাপক
রূপ নিয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টার সামরিক অভিযানে সেনা বাহিনীর সাথে সংঘাতের ফলে অন্তত ৪৭৬ জন হুথি যোদ্ধা নিহত অথবা আহত হয়েছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল-নুজাইলি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শনি ও রোববারে ইয়েমেনের উত্তর প্রান্ত, পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, দক্ষিণ ও মধ্যভাগের বিশাল এলাকার ১০টি ভিন্ন সামরিক ফ্রন্টে সেনাবাহিনী মোট ৩৫৬টি অভিযান সম্পন্ন করেছে। এতে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সংঘাত সংঘটিত হওয়া ১০টি ফ্রন্টের মধ্যে রয়েছে পশ্চিম উপকূল সংলগ্ন হারাধ, হাজ্জাহ প্রদেশের আল-তুয়াল, উত্তর সীমান্তের সা’দা অঞ্চলের কাতিফ, আল বাকা ও আল্ব, উত্তর-পূর্বের জেলা আল জাউফ, পূর্বাঞ্চলীয় জেলা মারিব, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা লাহজ, দক্ষিণ-পশ্চিমের এলাকা তাইজ এবং মধ্যাঞ্চলীয় আল বায়দা জেলা।
কর্নেল আল-নুজাইলি তাঁর পোস্টে দাবি করেন, এসব সামরিক অভিযানে হুথিদের প্রধান কমান্ড কার্যালয়, অস্ত্র ও রসমদের গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র প্রক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিপুল পরিমাণ সামরিক গাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযানের জবাবে হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধবিমান, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ধ্বংসাত্মক রকেট ও বিভিন্ন ধরনের তাজা গোলাবারুদ ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোট হতাহতদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন আর কতজন আহত হয়েছেন—সেটির সুনির্দিষ্ট হিসাব তিনি বিস্তারিত জানাননি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে প্রথম গৃহযুদ্ধ সূচনা হয় এবং তার পরের বছর ২০১৫ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা আচমকা হামলা চালিয়ে রাজধানী সানা নিজেদের দখলে নেয়। সানার পতন হলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি জীবন বাঁচাতে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর হাদি সরকারকে পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে সেই বছর থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে যৌথ অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
বর্তমানে রাজধানী সানা, গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকা, কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ ইয়েমেনের সমগ্র উত্তর অঞ্চল এবং মোট ভূখণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি অংশ হুথিদের অধীনে রয়েছে। অন্য দিকে, সৌদি সমর্থিত ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ পরিচালিত সরকার কেবল দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, যা কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
উত্তর ইয়েমেনি ভূখণ্ডকে বিদ্রোহীদের কব্জা থেকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে গত জুলাই মাস থেকে দেশটির সেনাবাহিনী নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে।
এর আগে রোববার সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’-কে কর্নেল আল-নুজাইলি জানান, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার—এই তিন দিনে (৭২ ঘণ্টায়) হুথি ঘাঁটিতে মোট ৭৫৬টি সামরিক হামলা পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। সেই তিন দিনের ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৩১৬ জন হুথি সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন।
এসআর