[email protected] মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধ বিরতিতে মধ্যস্থতাকারীদের শরণাপন্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৩৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

বিগত সাত মাস ধরে চলমান সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

 ও ইরান। সংশ্লিষ্ট উভয় দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তারা পৃথকভাবে মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

​আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরানের পক্ষ থেকে যে সাত দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার পরিমার্জিত রূপ নিয়ে এতে আলোচনা হতে পারে।

​এদিকে জাতিসংঘের অধিবেশন শেষ হলেও এখনও নিউইয়র্কেই অবস্থান করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার শর্ত এবং সার্বিক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

​আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই সমঝোতা বা শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করে, তবে ইরান সেই সমাধানের পথ ইতোমধ্যেই উন্মুক্ত করে রেখেছে।

​অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানান, তাদের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের সাথে কথা বলেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

​ইরানের দেওয়া খসড়া প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, বিদেশে আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পত্তি ফেরত দেওয়া, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হবে।

​এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হস্তগত বা ধ্বংস করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়েও উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

​তবে এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান যে তিনি ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার কারণেই ইরান দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।

​উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। টানা সাত মাস ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধে এ পর্যন্ত বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সাথে জ্বালানি তেল পরিবহনের মূল সমুদ্রপথগুলো বন্ধ থাকায় সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতিতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

​এর পূর্বে গত এপ্রিল ও জুন মাসেও মধ্যস্থতাকারীদের সহযোগিতায় দুই দেশ দু'বার যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে সেই দুইবারের প্রচেষ্টা ও চুক্তিই অতি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর