[email protected] রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপাল-তিব্বতে বন্যা-ধসে মৃত ৬৩৩, নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ ১:২২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে পৌঁছেছে।

একই দুর্যোগে তিব্বতে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৩৩ জনে। পাশাপাশি দুই অঞ্চলে এখনো আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নেপাল পুলিশের বরাতে দেশটির মৃতের সংখ্যা ৬২৬ জন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। অন্যদিকে চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৪ জন।

 

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার দেওয়া হিসাবে, দেশটিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৯২৪। তাদের মধ্যে ৫১৭ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। তবে উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

 

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকারীদের নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তৎপর থাকতে দেখা যায়।

 

তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তিব্বতের দুর্যোগের অন্যতম কেন্দ্র গিরং বন্দরে পৌঁছান। তাদের যেতে হয়েছে খাড়া পাহাড়, দুর্গম পথ ও প্রবল স্রোতের নদী পেরিয়ে।

 

লাসার একটি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান জৌ মিংছি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে জানান, গিরং বন্দরে গিয়ে তারা ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ দেখতে পান। পুরোনো সীমান্ত গেটের আশপাশের এলাকা ঘন কাদায় ঢাকা পড়ে যায় এবং সেখানে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল গিরং বন্দর। স্যাটেলাইট চিত্রে বন্দরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান আরও নিরাপদ করতে দুর্গম ঢাল ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ব্যবহার করছে চীনের উদ্ধারকারী দল।

 

আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকার সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নিখোঁজদের মধ্যে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালুর কাজও চলছে।

 

তবে দুর্যোগের পর সৃষ্ট একটি হ্রদের পানির উচ্চতা আবার বাড়ছে বলে জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম। এতে নতুন করে কাদা ধস ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

অন্যদিকে নেপালে দুর্যোগের কারণে কয়েক হাজার পরিবার খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি সহায়তা কার্যক্রম বাড়িয়েছে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ নেপালের জন্য ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, নেপালে জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ ইউরো দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশের জনগণ একসঙ্গে কাজ করে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি

এসআর

সম্পর্কিত খবর