[email protected] সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র ১৪৩৩

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার খবরে আশাবাদী বাংলাদেশি কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ আগষ্ট ২০২৬ ৭:২৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বিদেশগমনেচ্ছু শ্রমিক ও জনশক্তি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

সম্ভাব্য এই সুযোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার নতুন কাঠামোয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা কর্মী নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী এজেন্সি নির্বাচন করতে পারবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পাওয়া প্রায় ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে জনশক্তি রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং আরও বেশি এজেন্সি কাজ করার সুযোগ পাবে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মাত্র ৬ হাজার টাকা ফি দিয়ে এজেন্সিগুলোর মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরির কথাও জানা গেছে।

বিদেশগমনেচ্ছু কয়েকজন শ্রমিক জানান, মালয়েশিয়ায় তুলনামূলক ভালো বেতন ও কর্মপরিবেশ থাকায় দেশটিতে যাওয়ার আগ্রহ বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের। শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ তাদের সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা মহিউদ্দিন রিংকু বলেন, তার এক আত্মীয় ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

তিনিও দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শ্রমবাজার চালুর খবর পাওয়ায় এবার কম খরচে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

পাবনার চাটমোহরের পারভেজ আলমও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগে তিনি সন্তুষ্ট।

জনশক্তি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দক্ষতার পাশাপাশি দেশটি তুলনামূলকভাবে অদক্ষ কর্মীদেরও নিয়োগ দিয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির বাজারটি দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয়।

নয়াপল্টনের জনশক্তি ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের মতো এবং এর সঙ্গে ওভারটাইমের সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিল থাকায় কর্মীদের জন্য মানিয়ে নেওয়াও তুলনামূলক সহজ। তার মতে, নতুন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে কম খরচে নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি হবে।

কাকরাইলের আরেক জনশক্তি ব্যবসায়ী শফি উদ্দিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মালয়েশিয়ার বাজার চালু হওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ আনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ থাকলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কর্মীরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করেন তিনি।

তবে শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং অবৈধভাবে কর্মী পাঠানোর চেষ্টা ঠেকাতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ, বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু হলে অবৈধ সিন্ডিকেটের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সরকারের উচিত পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন।

এরপর ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। ১ জুন থেকে নতুন করে বিদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা প্রকাশ করে।

এতে বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে এবং কী পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

এফডব্লিউসিএমএসের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেডসহ মোট ২৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

একই সঙ্গে ৪০টি মেডিকেল সেন্টারের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বায়রা সদস্যভুক্ত সব এজেন্সি যাতে কাজের সুযোগ পায়, সরকার সে বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাশাপাশি কম খরচে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। কর্মীরা যাতে স্বল্প ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন নিয়োগব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ম কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।

তবে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগে গমনেচ্ছুদের কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর