ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের সামনে
আসেননি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি। রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও দেশের এই কঠিন মুহূর্তে তিনি কোথায় বা কেমন আছেন, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। তার এই রহস্যময় অনুপস্থিতি দেশটির রাজনীতিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে বিমান হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রাণ হারান। ওই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন বলে জানা যায়। বাবার মৃত্যুর পর তাকে নতুন প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তায় তাকে সরাসরি দেখা বা শোনা যায়নি। সরকারি টিভিতে কেবল লিখিত বার্তা পড়ে শোনানো হয় এবং বাবার শেষকৃত্যের মতো বড় আয়োজনেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
ইরান সরকারের দাবি, শত্রুপক্ষ যেন অবস্থান শনাক্ত করে পুনরায় হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে গোপন স্থানে রাখা হয়েছে। আড়াল থেকেই তিনি বিশ্বস্ত কর্মকর্তা ও বাহিনীর সাহায্যে দেশ পরিচালনা করছেন বলে জানানো হলেও দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে রাজনীতিবীদ ও সাধারণ মানুষের মনে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ বা শান্তির মতো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতার উপস্থিতি জরুরি; অন্যথায় ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এসআর