[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৫ ভাদ্র ১৪৩৩

মানবিক কর্মীদের নিরাপত্তা চান জাতিসংঘ মহাসচিব

মোঃ আলী আকবর রনী

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ ৮:০৭ পিএম

বিশ্ব মানবিকতা দিবসে জাতিসংঘ মহাসচিব মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করা মানবিক কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারের বেশি মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে কাজ করা স্থানীয় কর্মী।

১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিকতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মানবিক সহায়তা দেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে মানবিক কর্মীরা গুলিবর্ষণ, গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা, অপহরণ ও যৌন সহিংসতার মতো ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে এক হাজারের বেশি মানবিক কর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন স্থানীয় কর্মী, যারা নিজেদের জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য কাজ করছিলেন। আরও অসংখ্য মানবিক সহায়তাকর্মী গুলির আঘাত, গোলাবর্ষণ, বোমা হামলা, অপহরণ কিংবা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, শুধু মানবিক কর্মীরাই নয়, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে স্কুল ও হাসপাতালও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে সশস্ত্র ড্রোন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

বার্তায় তিনি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পথে একাধিক নতুন বাধার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। একই সময়ে মানবিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ অর্থ কমছে এবং সংকটকবলিত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণবাহী বহর আটকে দেওয়া হচ্ছে। মানবিক সহায়তাকর্মীদের হুমকি দেওয়া, গ্রেপ্তার ও আটক করা হচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপদে থাকা মানুষগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এসব হামলার প্রভাব শুধু সহায়তাকর্মীদের ওপরই পড়ে না; এর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হয় যুদ্ধ ও দুর্যোগে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষকে।

‘শিশুরা খাবারের অপেক্ষায়, রোগীরা চিকিৎসার অপেক্ষায়’: মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, সংঘাত ও সংকটে থাকা পরিবারগুলো বেঁচে থাকার জন্য সহায়তার অপেক্ষায় থাকে। শিশুরা খাবারের অপেক্ষায় থাকে, আর অসুস্থ ও আহত মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করেন। মানবিক কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে এসব মানুষের কাছেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবে কার্যকর করার সময় এসেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি চারটি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এগুলো হলো—যুদ্ধের আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা, মানবিক সহায়তার জন্য নিরাপদ ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, মানবিক কর্মীদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মানবিক সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও সম্পদ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, মানবিক কর্মীরা প্রয়োজনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাই এখন বিশ্বকে মানবিক কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বার্তার শেষাংশে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, মানবিক কর্মীরা অসহায় মানুষের জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেন। এখন তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব বিশ্ব সম্প্রদায়ের। মানবতার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর