ভারতের উত্তরাখণ্ডে একটি টানেলে কাজ করার সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত
সাতজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও কমপক্ষে তিনজন ভেতরে আটকা পড়েছেন। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার একটি নির্মাণাধীন টানেলে আচমকা পানি প্রবেশ করায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই করুণ দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়।
রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কতৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখনও তিনজন শ্রমিক ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই ঘটনা থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, চামোলির পিপলকোটি এলাকায় ‘তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড’ (টিএইচডিসি)-এর প্রকল্পস্থলে অন্তত ২৮ জন নির্মাণশ্রমিক কাজ করছিলেন। ঠিক সে সময়ই আচমকা পানির একটি শক্তিশালী স্রোত টানেলের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত অনেক শ্রমিক সেই তোড়ে ভেসে যান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য লাখপত বুটোলা শোক প্রকাশ করে জানান, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রশাসনের পুরো টিমসহ আমার সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। বর্তমানে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলকে নিরবচ্ছিন্ন সাহায্য দেওয়াই আমাদের প্রথম লক্ষ্য।’
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব কুমার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টানেল নির্মাণের কাজ চলার সময় হঠাৎ ভেতরে দ্রুত পানি প্রবেশ করে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়।
ঘটনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান চালনার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তের হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। এছাড়া ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদেরও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে, কারণ সেখানে তাদের রাজ্যের কিছু বাসিন্দা আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রধানের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় কথা হয়েছে।’
প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকা পড়াদের খুঁজে বের করতে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) যৌথ টিম টানা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই ওই জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবারই নদীর পানিবৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে জেলার নীতি উপত্যকা এলাকার একটি মেটাল সেতু ভেসে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাদামিশ্রিত পানির এক বিশাল ঢল প্রবল বেগে এসে সেতুটিতে প্রচণ্ড আঘাত হানে। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে শক্তিশালী পানির ধাক্কায় ধাতব সেতুটি উপড়ে গিয়ে নদীর তীরের দিকে ভেসে চলে যায়।
এসআর