[email protected] শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরান সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ আগষ্ট ২০২৬ ৯:০১ এএম

সংগৃহীত ছবি

ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট)

 আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অননির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ বজায় রাখার হুমকি দেওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার নতুন সংশয় তৈরি হয়েছে।

​আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট বা ০.১ শতাংশ বেড়ে ৮৭.১৬ ডলারে ঠেকেছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮১.২৯ ডলারে।

​এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা হ্রাসের আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, পূর্ববর্তী একাধিক কার্যদিবসে ধারাবাহিক দরবৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দামই সার্বিকভাবে প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার দিকে রয়েছে।

​এদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোসেইন তাইয়েব দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে 'ইসলামি প্রজাতন্ত্রের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে' রয়েছে।

​আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার এই আশঙ্কা বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

​তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে; আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা নিয়ে বৈশ্বিক পূর্বাভাস কিছুটা মন্দা প্রকাশ করেছে। চলতি সপ্তাহে ওপেক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)—উভয় সংস্থাই বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বের অনুমান কমিয়ে এনেছে।

​এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধির মুখ দেখেছে, যা বাজারে তেলের দাম অতিরিক্ত বাড়তে বাধা দিচ্ছে।

​কেসিএম-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার এই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জানান, জ্বালানি বাজারে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী প্রভাব সক্রিয় রয়েছে। একপক্ষে সরবরাহের সংকটজনিত উদ্বেগ দামকে উঁচুতে ধরে রাখছে, অন্যদিকে চাহিদা কম থাকার পূর্বাভাস দামের বড় ধরনের বৃদ্ধিকে আটকে দিচ্ছে।

​অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি’ (এডনক)-এর দুটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াম নিশ্চিত করেছে।

​সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে। সংবেদনশীল ওই জলপথে এই হামলার পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে পুরো বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর