বিশ্ব মানবিকতা দিবসে জাতিসংঘ মহাসচিব মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত তিন বছরে এক হাজারের বেশি মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব মানবিকতা দিবস উপলক্ষে যুদ্ধ, সংঘাত ও দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা মানবিক সহায়তাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। একই সঙ্গে মানবিক কর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, অন্যের জীবন বাঁচাতে কাজ করাটাই এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিকতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, লাখো মানুষের জীবন রক্ষায় যারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, এই দিনে তাদের সম্মান জানানো হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেখানে মানুষের সেবা করতে গিয়ে মানবিক সহায়তাকর্মীদের জীবনই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এক হাজারের বেশি মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন স্থানীয় কর্মী, যারা নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন।
শুধু প্রাণহানিই নয়, আরও অসংখ্য মানবিক কর্মী গুলিবর্ষণ, গোলাবর্ষণ, বোমা হামলা, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন।
হামলার ঝুঁকিতে স্কুল-হাসপাতালও। মানবিক সহায়তাকর্মীদের পাশাপাশি যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে স্কুল ও হাসপাতালও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তার বার্তায় বলা হয়, যুদ্ধের নতুন প্রযুক্তিও মানবিক কর্মীদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের কাছে খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ওপর শুধু সরাসরি হামলাই নয়, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
এর পাশাপাশি মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাচ্ছে এবং দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও বিভিন্ন জায়গায় সীমিত করা হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে ত্রাণবাহী গাড়িবহর আটকে দেওয়া হচ্ছে। মানবিক সহায়তাকর্মীদের হুমকি দেওয়া, গ্রেপ্তার ও আটক করার ঘটনাও ঘটছে। এর ফলে যেসব মানুষ সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন বোধ করছেন, তারাই অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
‘মানবিক কর্মীদের ওপর হামলা বেআইনি’: জাতিসংঘ মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেছেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা বেআইনি।
এ ধরনের হামলার প্রভাব শুধু একজন কর্মী বা একটি সংস্থার ওপর পড়ে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ে যুদ্ধ ও সংকটে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা সাধারণ মানুষের ওপর।
পরিবারগুলো যখন বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে, শিশুরা যখন খাবারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অসুস্থ মানুষ যখন জরুরি চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছে—তখন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
চারটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান: মানবিক কর্মীদের নিরাপত্তা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি চারটি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
এর মধ্যে রয়েছে—
তার আহ্বান, মানবিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই—মানবতার স্বার্থে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
এসআর