লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ইউএসজিএসের হিসাবে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। তবে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গভীরতা ৭৯ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যালে দেল কাউকা এলাকায় ২৭ জন, পেরেইরায় ১৮ জন এবং মানিজালেসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ক্যালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অন্তত ২৫টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এহে কাফেতেরো পর্যটন অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বাড়ির ছাদ ধসে পড়া এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হওয়ার পর মেডেলিন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দাদের কয়েকটি এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই করতে শহরটির মেট্রো রেল চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।
রাজধানী বোগোতাতেও ভূমিকম্পের সময় বিভিন্ন ভবনের অ্যালার্ম বেজে ওঠে। আতঙ্কে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে শহরটির মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান জানিয়েছেন, রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিছু ভবনে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে।
চোকো অঞ্চলের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, প্রাদেশিক রাজধানী কিবদোতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য আফটারশক নিয়েও সতর্কতা জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চলছে। ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
এসআর