বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ ভারত সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। এ বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কী এবং বর্তমানে সেই পরিবেশ রয়েছে কি না—তা জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার মামলার নথি এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র ভারতের কাছে পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ১০ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে তদন্ত চলছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগেও স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রত্যর্পণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না, সংবাদ সম্মেলনে সে প্রশ্নও ওঠে। সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তাও জানতে চান সাংবাদিকরা।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এসব আমন্ত্রণের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পর ১০ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে।
এসআর