আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে বিশ্বের তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্যম ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা ভিন্ন হলেও মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও সুযোগের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যাশা অনেকটাই অভিন্ন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, তরুণ প্রজন্মের সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
এবারের আন্তর্জাতিক যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Different Contexts, Common Aspirations’—বাংলায় যার অর্থ ‘ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা’। জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আলাদা হলেও তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, তরুণদের সামনে থাকা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন। এসব সমস্যা কোনো একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতীয় সীমারেখা অতিক্রম করে তরুণদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে। তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়, তরুণরা ইতিমধ্যে সংগঠক ও উদ্ভাবক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতের পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা।
তরুণদের কেবল ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে বিবেচনা না করে সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, তরুণদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করা গেলে তাঁদের জনমিতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সংকট মোকাবিলায় তাঁদের শক্তি ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
এ জন্য স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের আরও বেশি ভূমিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বার্তায় আরও বলা হয়, বিশ্বের তরুণদের মধ্যে যে বিষয়গুলো ঐক্য তৈরি করে, তা তাঁদের বিভাজনের কারণগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তরুণদের জন্য বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তির যে দাবি রয়েছে, তার প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
জাতিসংঘ বলেছে, এমন একটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রতিটি প্রজন্ম বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং তরুণরা তাঁদের সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পথে এগিয়ে নিতে পারবেন।
এসআর