[email protected] বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইসরাইলের কাছ থেকে আমিরাতের অস্ত্র কেনার গোপন ই-মেইল ফাঁস

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ আগষ্ট ২০২৬ ১:৫১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইসরাইলের কাছ থেকে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র কিনতে কীভাবে

 আলোচনা চালিয়েছিল, সে সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল ও নথি ফাঁস হয়েছে। ২০২২ সালে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা আবুধাবিতে হামলা চালানোর পর ইসরাইলের শীর্ষ সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'এলবিট সিস্টেমস'-এর সঙ্গে এই আলোচনা ত্বরান্বিত হয়।

​ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এবং মার্কিন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ-এর যৌথ প্রতিবেদনে প্রকাশিত ফাঁস হওয়া ই-মেইলের ভিত্তিতে এ তথ্য সামনে এসেছে।

​প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত ইউএই ও এলবিট সিস্টেমসের মধ্যে হার্মিস-৯০০ ড্রোন, স্কাইআই নজরদারি প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সুবিধার বিষয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলে।

​তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি হুথিরা আবুধাবিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর এই প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা জরুরি রূপ নেয় এবং দ্রুত গতি পায়।

​ইসরাইলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের এসব গোপন বার্তা ‘হানদালা’ নামের একটি সাইবার হ্যাকার গ্রুপ হস্তগত করে, যাদের সঙ্গে ইরানের সংযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশকারী দুই সংবাদমাধ্যমই নিশ্চিত করেছে যে নথিপত্রগুলো সম্পূর্ণ সত্য।

​প্রাথমিকভাবে চুক্তিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ (১৫৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। পরবর্তী সময়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় চুক্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২২ কোটি ৫০ লাখ (২২৫ মিলিয়ন) ডলারে। তবে এই সামরিক ড্রোনগুলো শেষ পর্যন্ত হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, ফাঁস হওয়া নথিতে তা স্পষ্ট নয়।

​উল্লেখ্য, স্কাইআই সেন্সরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ক্যামেরা সংযুক্ত থাকে, যা একযোগে বিশাল এলাকা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই ধরনের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আক্রমণকারী কোনো বস্তুর গতিপথ বা উৎস সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।

​অন্যদিকে, হার্মিস-৯০০ হলো ইসরাইলের অত্যাধুনিক একটি গোয়েন্দা ও নজরদারি ড্রোন। এটি প্রায় ৯৯০ পাউন্ড পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম। বেশ কিছু সূত্রে বলা হয়েছে, এটি ভূমিতে বা আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহনেও পারদর্শী।

​ই-মেইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ মাসে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান একটি ইউএই সফরের পরিকল্পনা করছিলেন। সেখানে তিনি এমন একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখেন, যা দেশের বাইরে থেকে উৎক্ষিপ্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারবে।

​এর আগে আবুধাবি বিমানবন্দর এবং তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হুথিরা ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যার পরই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

​সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরাইল প্রায় দুই বছর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় 'আব্রাহাম একর্ডস'-এর মাধ্যমে তাদের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ইসরাইল, আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর মধ্যে প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

​ফাঁস হওয়া গোপন তথ্যে আরও দুটি সামরিক ব্যবস্থার নাম উঠে এসেছে—স্কাইস্ট্রাইকার লয়টারিং মিউনিশন এবং হার্মিস-৬৫০ ড্রোন।

​বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে ইউএই এবং ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান গোপন সামরিক সম্পর্কের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইসরাইলি প্রযুক্তির প্রভাব নির্দেশ করে।

​বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলী পদক্ষেপেও আমিরাতের নাম এসেছে।

​এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সঙ্গে তৈরি হওয়া উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে ও নতুন ধরনের অস্ত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে ইসরাইল ও ইউএই যৌথভাবে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর