যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দাবানল। আগুনে অঞ্চলের প্রায় ৬০
হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ রোববার (২ আগস্ট) জানিয়েছে, দাবানলে ইতিমধ্যে অন্তত ৬০০টি ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
দাবানলে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর স্পোকেন ও তার সংলগ্ন অঞ্চলের প্রায় ৮ দশমিক ২ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্পোকেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি এলাকায় আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, স্পোকেনের ইউএস ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের রোগীদেরও সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত চিত্রে দেখা গেছে, বিভিন্ন ভবনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং আবাসিক এলাকাগুলোর ওপর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ভাসছে। পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে শুধু চিমনিগুলো টিকে রয়েছে। আগামী কয়েক দিন শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
স্পোকেনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল বলেন, সংকট এখনো কাটেনি এবং আগামী কয়েক দিন বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।
শুধু ওয়াশিংটন নয়, পশ্চিম আইডাহো এবং পূর্ব ওরেগনের প্রায় ৫২৫ বর্গমাইল তৃণভূমিও দাবানলে পুড়ছে। সেখানে টানা দশ দিনের মতো বুলডোজার ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গবাদিপশুর খামারসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের আরো ৬০০টির বেশি বাড়ি এবং ৮০০টির মতো স্থাপনা এখনো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের অধিকাংশ সময়জুড়ে ওই অঞ্চলের আবহাওয়া রৌদ্রোজ্জ্বল ও শুষ্ক থাকবে এবং বুধবার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। বজ্রপাতের কারণেই মূলত এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
ইতিমধ্যে জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) পূর্ব ওয়াশিংটন, পূর্ব ওরেগন, পশ্চিম ও মধ্য আইডাহো এবং পশ্চিম মন্টানায় বায়ুর মান সম্পর্কিত সতর্কতা জারি করেছে। ইউটা, মন্টানা এবং পশ্চিম নেব্রাসকায় 'রেড ফ্ল্যাগ' সতর্কতা জারির পাশাপাশি অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ নেভাডা ও উত্তর মন্টানায় তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
স্পোকেন কাউন্টির কমিশনার ক্রিস জর্ডান জানান, তার পরিবারের সদস্যরাও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানান্তরের সময় চতুর্দিক ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
এসআর