[email protected] সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে মার্কিন তেল জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও শেভরনের রেকর্ড মুনাফা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ আগষ্ট ২০২৬ ১১:১৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি

 তেলের দাম এবং রিফাইনিং মার্জিন বা পরিশোধনের মুনাফা অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রত্যক্ষ সুফল পেয়ে রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই জ্বালানি জায়ান্ট—এক্সনমোবিল এবং শেভরন।

​গত শনিবার (২ আগস্ট) প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক্সনমোবিল ১৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব, তেলের বাজার চড়া হওয়া এবং ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিফাইনিং মার্জিন অর্জিত হওয়াই এই রেকর্ড মুনাফার মূল কারণ বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

​অন্যদিকে একই সময়ে শেভরন মুনাফা করেছে ১২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। মূলত ইরানের সামরিক অবস্থানের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়, যার সুফল সরাসরি কোম্পানিগুলোর আয় বাড়িয়ে দেয়।

​এক্সনমোবিল জানায়, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী মোট রিফাইনিং সক্ষমতার প্রায় ৯ শতাংশ কাজ বন্ধ বা ব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের পরিশোধনের মুনাফা মার্জিন সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। তবে কাতারের এলএনজি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের মোট গ্যাস উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

​এদিকে শেভরন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৯৬.৪১ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালে হেস (Hess) অধিগ্রহণের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের সামগ্রিক আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে সৌদি আরব ও কুয়েতের মধ্যবর্তী বিভাজিত অঞ্চল বা পার্টিশনড জোনে উৎপাদনে ভাটা পড়া এবং বৈশ্বিক রিফাইনারিগুলোতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ার কারণে শেভরনকে কিছু ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখেও পড়তে হয়েছে।

​জ্বালানি কোম্পানিগুলোর এই অভাবনীয় লাভের বিপরীতে মার্কিন সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষোভ বাড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ তীব্র হচ্ছে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ব্যাপক মুনাফা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে প্রাক-বাজার লেনদেনে এক্সনমোবিল ও শেভরনের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ১.৫ শতাংশ এবং ০.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর