[email protected] সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেউতায় অভিবাসী ঢল: স্পেনের নীতি নিয়ে বিতর্ক

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ আগষ্ট ২০২৬ ১১:১০ পিএম

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় সাঁতরে ও স্থলপথে প্রায় ৬০ হাজার

 অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। এই অভূতপূর্ব অনুপ্রবেশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। ইউরোপের কয়েকজন রাজনীতিক দাবি করছেন, স্পেন সরকারের সাম্প্রতিক 'বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচির' প্রভাবেই এই জোয়ার এসেছে। তবে তথ্য ও পরিসংখ্যানে এই দাবির সপক্ষে কোনো সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

​ঘটনার পরপরই ইউরোপের ডানপন্থী নেতারা মাদ্রিদের অভিবাসন নীতির সমালোচনা শুরু করেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি অভিযোগ করেন, স্পেনের এ নীতি ‘মানবপাচারকে উৎসাহিত করেছে’ এবং এর প্রতিবাদে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিতের ইঙ্গিত দেন। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি ও ফরাসি ইইউ সদস্য ফ্রঁসোয়া-জাভিয়ে বেলামিও একই সুর মেলান। তবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস এসব অভিযোগকে 'রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

​বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্পেনের নিয়মিতকরণ কর্মসূচির আবেদন গ্রহণ বন্ধ হয়েছে জুনের শেষে—অর্থাৎ বর্তমান ঘটনার প্রায় এক মাস আগেই। এছাড়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে কাউকে ইউরোপীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে না; বরং আগে থেকে স্পেনে বসবাসরত অনথিভুক্ত কর্মীদের শর্তসাপেক্ষে এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, এতে আবেদনকারীদের দুই-তৃতীয়াংশই মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার নাগরিক, আর মরক্কোর নাগরিকদের আবেদন ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ। দুই মাসে প্রায় ১২ লাখ আবেদন জমা পড়লেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১ হাজার মানুষ রেসিডেন্স পারমিট পেয়েছেন।

​তাহলে হঠাৎ সেউতায় এত অভিবাসী কীভাবে ঢুকলো? স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এল ফারো দে সেউতা’ ও স্প্যানিশ রাজনীতিকদের একাংশের মতে, মরক্কো সীমান্তে সাময়িকভাবে কড়াকড়ি শিথিল করায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সীমান্ত খুলে দেওয়ার’ গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ভাগ্য পরীক্ষার জন্য সেখানে জড়ো হন। যদিও পরবর্তীতে মরক্কোর পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো শুরু করে।

​অন্যদিকে, স্প্যানিশ সরকার এই পরিস্থিতির পেছনে তাদের দেশের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে দায়ী করছে। জুনের শেষ দিকে দেওয়া আদালতের ঐ রায়ে বলা হয়েছিল, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া সমুদ্র থেকে অভিবাসীদের আটক করে মরক্কোয় তাত্ক্ষণিক ফেরত পাঠানো বা ‘পুশব্যাক’ বেআইনি। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই সীমান্তে প্রাথমিক কড়াকড়ি শিথিল হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপজ্জনক অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবেশকারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার মানুষকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর